ভগন্দর সহ আরো কিছু গোপন রোগ ও তার গাছড়া চিকিৎসা ।

 ভগন্দর এর লক্ষণ ও এর গাছড়া চিকিৎসা।


ভগন্দর এর লক্ষণ ও এর গাছড়া চিকিৎসা।

এর লক্ষণ :- এ রােগে মলদ্বারের চারধারে ক্ষত হয় । এ ক্ষত সহজে শুকায় না। এইজন্য প্রায়ই নালী বা শােথ হয়। প্রথমে মলদ্বারের পাশে একটি গােটা বা ফুস্কুরি মত হয়। সামান্য চুলকায়। কয়েকদিন পর ব্যথা,ফোলা দেখা দেয় এবং আক্রান্ত স্থান পেকে যায় ও পুঁজ জন্মায়। খুবই

যন্ত্রণা অনুভুত হয় ।


এর চিকিৎসা:- আক্রান্ত জায়গা নিমপাতা, সিদ্ধ দিয়ে ধুয়ে ফেললে। সখার উপশম হয়। এ রােগের চিকিৎসা যে কোন ভাল কবিরাজের দ্বারা করানাে উচিত ।

এর পথ্য:- লঘু অথচ পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত। মাছ, মাংস এবং সর্বপ্রকার গুরুপাক দ্রব্য বা খাদ্য মশলা খাওয়া ক্ষতিকর।


হৃদরোগ


এর লক্ষণ :- খুব বেশি ব্যায়াম, বয়স, বৃদ্ধি, মানসিক উত্তেজনা,জীর্ণতা স্নায়বিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, অতিরিক্ত ধুমপান প্রভৃতি কারণে হৃদরােগ হয়। বুক ধড়ফড় করা, বুক ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি এই রােগের লক্ষণ ।


এর চিকিৎসা:-অর্জুন গাছের ছাল চূর্ণ করে দৈনিক দু'বেলা গরম ভাতের সাথে ২ চামচ করে, ঘি দিয়ে (লবন ব্যতিত) খাইতে হইবে বা গরম দুধের সাথে দু’ চামচ করে দৈনিক দুই বার খাইতে হবে এভাবে ১ মাস। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য নির্দিষ্ট ঔষধ খেতে হবে ।


এর পথ্য:-ভিটামিনযুক্ত, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে ।


হাই ব্লাডপেসার

হাই ব্লাডপেসার ও গাছড়া চিকিৎসা


এর লক্ষণ :- বহুদিন ধরে পেটের সমস্যা এবং পুরাতন রােগ এবং নাড়ীর কাঠিন্য ও স্থূলত্ব প্রভৃতি কারণে শরীরে রক্তের চাপ বৃদ্ধি পায়। এর কারণে হৃদপিন্ডের অস্বস্তিবােধ, বুক ধড়ফড় করা, মাথাঘোরা, নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ওঠা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। আর এই রােগে মহৌষধ হলাে-আহারের সংযমই।


এর চিকিৎসা:- খুব সকালে ও সন্ধ্যায় দু’চামচ করে থানকুনি পাতার রস খেতে হবে ১ মাস বা ১ কোয়া রসুন ১টি করে দুবেলা ভাত খাবার সময় খেতে হবে ১৫ দিন ।


এর পৃথ্য:-উত্তেজক এবং গরম, জাতীয়, খাদ্য খাওয়া নিষেধ। চিৎকার করে কথা বলা উচিত নয় । উত্তেজনা এড়িয়ে চলা উচিত।


লাে-ব্লাডপ্রেসার

এর লক্ষণ:-অজীর্ণ, আমায়শ, অক্ষুধা, অন্যান্য পুরনাে রােগ,নিউমােনিয়া ব্রংকল সংক্রান্ত রােগ, রক্তাল্পতা, প্রভৃতি কারণে শরীপের । রক্তের চাপ কমে যায়। হৃদপিন্ড অস্বস্তিবােধ, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘােরা, দুর্বলতা, চোখের শক্তি সুচীণ হওয়া প্রতি এ রোগের প্রধান স্বাক্ষস, ।প্রােটিন, ভিটামিনযুক্ত আহার মহৌষধ।


এর চিকিৎসা:-হেলে গুঢ়ার রস ২ চামচ, কলমীশাকের রস ২ চামচ কুলেখাড়ার রস ২ চামচ, মধু ২ চামচ এক সাথে মিশিয়ে দৈনিক সকালে । খেতে হবে ১ মাস পর্যন্ত ।


এর পথ্য:- প্রােটিন, ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া কর্তব্য। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে দৈনিক ৫০ গ্রাম করে কুলেখাড়া শাক রান্না করে খাওয়া উচিত।


সাদা স্রাব বা শ্বেতপ্রদর

সাদা স্রাব বা শ্বেতপ্রদর


এর লক্ষণ:- ঠাণ্ডা লাগা, অপরিষ্কার থাকা, উত্তেজক দ্রব্য পানাহার,ক্রিমি, অতিরিক্ত সঙ্গমে স্বাস্থ্যভঙ্গ প্রভৃতি কারণে এ রােগ হয়। জরায়ুর আরক ঝিল্লী, জলায়ুর অভ্যন্তর এবং জরায়ুর মুখ হতে কয়েক রঙের যে স্রাব নির্গত হয় তাকেই শ্বেতপ্রদর বলে থাকে। সাবের রং প্রায়শঃ সাল হয় বলেই লােকে একে শ্বেত প্রদর বলে থাকে। বস্ত্রে দাগ লাগা, মাথা ধরা, অজীর্ণতা, দুর্বলতা প্রভৃতি এ রােগের লক্ষণ ।


এর চিকিৎসা:-  দৈনিক সকালে ২ চামচ কাঁচা হলুদের রস, ২ চামচ দুর্বার রস, ১ চামচ চিনি একত্রে মিশায়ে খেতে হবে ১৫ দিন পর্যন্ত। শুকনো আমলকীর চার-পাঁচ গ্রাম রাতে ভিজিয়ে সকালে ছেকে এর সাথে আধ চামচ কাঁচা হলুদের রস বেশি কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তাজুন চাল চার-পাঁচ গ্রাম রাতে ভিজিয়ে সকাল ঘেঁকে তার সঙ্গে আধ চামচ কাঁচা হলুদের রস কয়েকদিন খেলে উপকার পাওয়া যায় । দুই-তিনটি ডালিমের ফুল বেটে কিছুটা সাদা চন্দনের সাথে মিশায়ে অল্প পানি কিংবা দুধ দিয়ে ৫/৬ দিন খেলে এ রোগের উপশম হয়। 


তবে এ রােগে গরম জাতীয় খাবার খাওয়া নিষেধ।বেড়েলার মূল পেষণ করিয়া, মধু মিশ্রিত করে, গাে-দুগ্ধের সাথে পান করলে সেই রােগ প্রশমিত হয় । কুশের মুল, শ্বেত বেড়েলার মূল,তণ্ডলােকের সাথে পান করলে প্রদর ও সাদা স্রাব প্রশমিত হয় ।


পথ্য:-  দৈনিক ইষৎ উষ্ণ পানিতে গােসল, দৈনিক ৩/৪ বারজননেন্দ্রিয় ধুয়ে ফেলা, বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করা খুবই উপকারী। কুরুচিপূর্ণ বই পড়া, কুসংসর্গ, গুরুপাক দ্রব্য আহার ও স্বামী সহবাস নিষেধ।


স্ত্রীলােকের বন্ধ্যাত্ব

এর লক্ষণ:- যে স্ত্রীলােকের সন্তান হয় না তাকে বন্ধ্যা বলে। বন্ধ্যাত্ব কোন রােগ নয়। শ্বেতপ্রদর, বাধ, রক্তরোধ, স্ত্রীজননাদের গঠন বিকৃতি বা ক্ষুদ্রতা, জলায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্ববাহী নালী প্রভৃতিতে অর্বুদ সহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। আবার স্বামীর দোষ এ অনেক সময় বন্ধ্যাত্বআসতে পারে ।


এর চিকিৎসা:- ১০ গ্রাম নাগেশ্বর ফুল চূর্ণ, ১০ গ্রাম কাকড়াশী, ১০ গ্রাম শ্বেতবড়লা, ১০ গ্রাম যষ্ঠিমধু, ১০ গ্রাম রক্তবড়লা একত্রে হামানদিস্তায় চূর্ণ করে নিতে হবে । এই চূর্ণ ১ চামচ, ঘি ১ চামচ, মধু ১ চামচ, দুধ ১০০ গ্রাম এক সাথে মিশিয়ে দৈনিক সকালে খেতে হবে।


এর পথ্য:- পুষ্টিকর পথ্য, প্রতিনি গােসল এবং ১৫ দিন পরপর সহবাস করতে হবে।


মহিলাদের সুতিকা


এর লক্ষণ:-কোন কারণ বশতঃ জরায়ু দুষিত হলে প্রসবের ৩/৪ দিন পরে সুতিকা জ্বর হয়। শীত, কম্প, প্রবল, জ্বর, পিপাসা, শিরপীড়া, ঘাম বা স্তনের দুধ বন্ধ হওয়ার প্রধান্য লক্ষণ।


এর চিকিৎসা:- শুঠ ৫ গ্রাম, চিতামুল ৫ গ্রাম, পিপুলমুল ৫ গ্রাম, হৈ ৫ গ্রাম এবং পিপুল ৫ গ্রাম একত্রে নিয়ে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে নিতে হবে এই ঔষধ সকারে খেতে হবে প্রতিদিন ।


মহিলাদের স্তনরােগ


এর লক্ষণ:- এ রােগে স্তন স্ফীত, রক্তবর্ণ, ব্যথা, গরম ও কঠিন হয়।

এর চিকিৎসা:- ৫ গ্রাম আদা ও ৫ গ্রাম ধুতুরা পাতা বেটে স্তনের ওপর প্রলেপ দিলে স্তন রােগ ভাল হয়।


জন্ম নিয়ন্ত্রণ


এর চিকিৎসা:- ২টি লবঙ্গ, ২টি গােলমরিচ এবং ৫ গ্রাম ঝাল পানের শেকড় একত্রে বেটে প্রতিদিন সকালে কেতে হবে ঋতুর পাঁচদিন ।


সুসন্তান লাভ


এর চিকিৎসা:-  করিবার পূর্বে শরীর কি প্রকার থাকে এবং শরীরকে সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি করে সুসন্তান লাভ করতে হলে কি কি উপায় অবলম্বন করা দরকার সে বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার।


ঋতুর প্রথম দিন থেকে ষােল দিন পর্যন্ত স্ত্রীর গর্ভধারণযোগ্য শক্তি থাকে। সুসন্তানকামী ও সুস্থ শররিভিলাষী ব্যক্তির ঋতুর প্রথম চারদিন এবং এগার ও তেরতম দিন সহবাস করবেন না। এই ছয় দিন বাদ দিয়ে বাকি দশ দিনের মধ্যে যত বেশি দিন পরে গর্ভধান করবেন, সন্তান তত বেশী সুস্থ্য ও বলবান হয় ও তার পরমায়ু বৃদ্ধি পায়। উপরােক্ত দশ দিনের মধ্যে রবিবার, অমাবস্যা, পূর্ণিমা, চতুর্দশী, অষ্টমী ও সংক্রান্তির দিন সহবাস করবেন না। 


কারণ, এই দিনগুলি পুরুষ ও স্ত্রী শুক্র ও শােনিত দুষিত থাকে। রাত্রির প্রথম প্রহরে গর্ভধান হলে সেই গর্ভস্থ সন্তান আব্বাস ও রুগ্ন হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রহর গর্ভধানের জন্য খুব একটা ভাল সময়। চতুর্ত প্রহরে গর্ভধান হলে সন্তান দীর্ঘায়ু ও নিরােগ হয় ।


ঋতুর চতুর্থ, ষষ্ঠ, অষ্টম, দশম ও দ্বাদশ রাত্রে সহবাস করলে পুত্রসন্তান জন্ম হয়। ঋতুর পঞ্চম, সপ্তম, নবম এবং একাদশ রাত্রে সহবাস করলে কন্যাসন্তান জন্ম হয়। সমরাত্রে পুরুষের বীর্ষ স্ত্রীর রজ অপেক্ষা বেশী থাকে,সেই কারণে পুস্ত্রসন্তান জন্ম হয়। সেই রকম বিজোড় রাত্রে স্ত্রীর রজ পুরুষের বীর্ষ অপেক্ষা বেশি থাকে সেই কারণে কন্যাসন্তান জন্ম হয়। সােমবার, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার রাত্রে সহবাস খুব ভাল ।


 মঙ্গলবার রাত্রে সহবাসে গর্ভ হলে মৃতসন্তান জন্ম হয়। সকাল সন্ধ্য এবং দ্বিপ্রহরে সহবাস হারিকারক। শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ্য থাকবে, মনের ভিতর কোনরূপ খারাপ চিন্তা থাকবে না, খাদ্য আধহজম হবে কিন্তু পেট খালি থাকতে না। ঠিক সেই সময় সহবাস করা উচিত। পায়খানা, প্রস্রাব এবং খিদে,পিপাসার সময় সহবাস করা উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় ধর্ম ও সৎচিন্তা করলে সন্তান ধার্মি ও সুখী হয় । গর্ভবতী নারী রাগ, হিংসা, মিথ্যাকথা প্রভৃতি অন্যান্য আচরণ করলে গর্ভস্থ সন্তান সেই সমস্ত গুণ নিয়ে জন্ম হয়। গর্ভাবস্থায় দিবানিদ্রা, উপবাস, সহবাস, মূলমূত্রাদির কোধারণ, রাত্রি জাগরণ, শােক, দুঃখ পরিত্যাগ করা উচিত। 


রজস্বলা স্ত্রী রজনিঃসারন দিন থেকে ততােদিনযন্ত গােসল করা কদাপি উচিত নয় এগাসল করলে দেহ থেকে দুষিত রক্ত না গিয়ে নানা প্রকার রােগ দেখা দেয় । এই দুষিত রক্ত স্বাস্থ্যের প্রতি এত খারাপ যে,এই সময় সহবাস করলে ভয়ঙ্কর রােগ দেখা দেয়। এমনকি পুরুষ নুপংসও হয়ে যেতে পারে। এই সময় সহবাস করে যদি গর্ভধান হয়।



● এই তথ্য গুলো সংগৃহীত ইন্টারনেট ও পুরাতন কিছু আয়ুর্বেদিক কিছু গ্রন্থ থেকে। প্ৰয়োগ করার আগে অবশ্যই এক বার যাচাই করবেন।

ভগন্দর সহ আরো কিছু গোপন রোগ ও তার গাছড়া চিকিৎসা । ভগন্দর সহ আরো কিছু গোপন রোগ ও তার গাছড়া চিকিৎসা । Reviewed by pukaro india on এপ্রিল ০৪, ২০২১ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.