পেঁপের গুনা গুন ও ভেষজ গুণাবলী (অমৃততুম্ভী) বিস্তারিত জানতে পড়ুন।

 অমৃততুম্ভী(পোঁপে)

Properties-and-medicinal-properties-of-papaya


ভারত যখন ইঙ্গ-ফরাসরি শাসনে আসেনি তখনও ভারতলুণ্ঠিত হয়েছে পাশ্চাত্যের বােম্বেটের দ্বারা, সে আজ প্রায় পাঁচ শ' বছর আগে থেকে শ,রহয়েছে; তারপর ইগ-ফরাসী লণ্ঠন যখন আরম্ভ হলাে, তখন তাঁরা চুপসে গেলেন সত্যি, কিন্তু জড় গেল না, সেটা নির্মল হ'লো হাল ফিল ১৯৬১ সালে। 


এই বোমেটেগণ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকলে বেশ কিছ, বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তুলে-ছিলেন। অখণ্ড বাংলার মধ্যে তাঁদের ঘাঁটি হয়েছিলাে হগলী জেলার সত্তগ্রামে,তারপর হগলী গ্রামকে প্রধান গঞ্জ শহর গড়ে তুলেছিলেন। তবে বলা যায় স্যবত্তি ও ধর্ম নিয়ে অসহিষ্ণতার জন্য তাঁরা কুখ্যাতিও কম অর্জন করেননি। তবও বলবে। তাঁদের দাক্ষিণ্যের বহ; নিশানা আজও ভারতের ঘরে ঘরে ঢুকে আছে। 


ডাকাতি ক'নাে দান করাই তাে একটা ধৰ্ম, সেই রকম ইংরেজ আসার পর তাঁদের যথেচ্ছারিতা বধ হয়ে গিয়েছিলাে, তারই মধ্যে তাঁদের মহান, ভবতা ও ছড়িয়ে পড়েছিলাে ১৭ ৪ ৩ খাদে 'তাঁরাই লিসবন (List১(১) থেকে রােমান হরফে বাংলা গদ্যের বই ছেপে বাংলায় প্রচার করেছিলেন, তারপর বাংলা শব্দকোষ, বাংলা ব্যাকরণ—এ সবই তাে রােমান হরফে ছেপে এনে এদেশের লােকের শিক্ষা বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন তাই তাে বহ, জিনিসেই ওঁদের নামগুলাে আমরা আত্মসাৎ করেছি—যেমন জানালা,কেদারা, আলপিন, পেরেক, সাবান ইত্যাদি। এইসবুকে আমরা বলতাম গবাক্ষ, কাঠাসিন লৌহকণ্টক। তারপর আরও দেখুন চার্চ তাে খষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার থান,সেইটাকেই তাে আমরা বুলি গীজা।


 এই শব্দটি কিতু পতুগিজ শব্দ। যাক এখন ভাষা চর্চা ছেড়ে বক্তব্যে ফিরে যাই। একটা কথা জেনে রাখুন, এদেশে খাদ্য হিসেবে যেসব ফল ও তরকারি ব্যবহার করা হয়, তাদের সংখ্যা যতই হােক।


হিসেব করলে এক এক প্রদেশে তা আঙ্গুলে গোনা যায়। তা ছাড়া আরও যেসবশাক-সবজি, ফল বহিরাগত হ'য়ে ভারতে এসে স্থায়ী বসবাস শুরু করেছে,নিবন্ধে ফলটিও সেই ধরনের জিনিস; এই পেপেও পর্তুগীজদের নিয়ে আসা। আজ সে সর্বভারতেই ব্যাস্ত। তারা যে আমাদের দেশে অমতভাণ্ডটি রেখে গিয়েছেন, তার নির্যাস, তার স্বাদ, তার গন্ধ, তার ভৈষজ্য—সেকি কোন কালে আর ভোলা যাবে ?ভারতের অধিবাসী কোনও কালে মূলােচ্ছেদ ক'রুতে চাইবে? পন্ডিত বৈদগণ সেই পতুগীজদের স্বদেশ থেকে আনা ফলটিকে আহার্য ও ভৈষজ্যগণনায় এক বিশেষ স্থান দিয়েই বলেছেন ।


এই ফলটি যেন অমতে ভরা আর তৃপ্তির লাউ, এটি ক্ষীরগাত্র, মহাফলা, আবার অপদশায় শ্যামবর্ণা, পদশায় যেন স্বর্ণকুম, এর রস শ্রেষ্ঠ পাচক, তাই নাম তার

রুপক্ত, এর উপরে থাকে শত শত ব"জ, তাই শতবীজা, এর ফলের এবং বক্ষের গলের রসের মধ্যেই বীর্যশক্তি, তাই তার নাম ক্ষীরশক্তি, এর রস গভপাত করে, পাতার

বোঁটাগলি ফাঁপা নলের মত, তাই তার নাম নবতা; এর পাতার আকৃতি এমন যে,যেন মনে হয় একটি হাতের চেটো অর আগুগলগল খুলে রেখেছে, কাঁচা ফলটির রস তিও, কিতু পাকলে অত্যান্ত মধর, শীতবীর্য এবং লঘু,পাক্ । 

আবার শরীরের রোগ দূর করার ক্ষে, উর রোগ, কিমি, মেহ ,অর্শ, পেটফাঁপা, মূত্রকৃচ্ছতা, তা দূর করে। তাছাড়া পক্কাশয়গত রােগও দূর করে। প্রতিটি গুণই অমৃততের মত, তাই তার নাম “অমৃ,তা", হয়তো অমৃত নামটি বন্ড বাড়াবাড়ির কিবা অতিশয় উক্তি মনে হবে,কিন্তু ভারতের সংস্কৃত ভাষায় অমৃতের শক্তি আর অমত নামের অর্থ কোথাও অবাস্তব কোন কিছু অস্তিত্বকে বােঝায়ন। 


       অমৃতং শিশির বহিঃ অমতং প্রিয় দর্শনম। 

       অমতং রাজসন্মানং অমতং সুর ভোজনম ।


 অর্থাৎ প্রবল শীতে অনির সঙ্গ লাভ সে তো অমৃত আবার প্রিয় ব্যক্তির দর্শন। লাভও তাে অমৃত । তাছাড়া রাজার কাছে সম্মান লাভ কি অমৃত নয় ? ক্ষর ভোজন অমতের স্বাদ পাওয়া যায়, তাছাড়া কচি মুখের আধাে-আধাে বুলিও তো অমৃত—“অমতং বাল ভাষিতম”। এইসব তথ্যে যে অমন্ত্রের আঘাদের কথা বলা হয়েছে তাতাে জীবনের আর মনের উভয়েরই ক্ষেত্রে অমত! আবার নব যৌবনের উদগ্র কামনার সময় যদি ঐকান্তিক সান্নিধ্য ঘটে তবে কি অধরামত লাভ ঘটে না ?



এইবার দেখা যাক, পর্তুগীজরা যে ফল ভারতে রেখে গিয়েছে তা অমৃত কিনা।


 নব্যের সমীক্ষায় গণ—কাঁচা পেপের আঠা ও বীজ ক্রিমিনাশক, রজঃনিসারক ও প্লীহা-যকৃতের হিতকর। পাকা পেপে কষ্ঠ পরিষ্কারক, বাযুনাশক ও মূত্রকারক। 


ঔষধার্থ প্রয়ােগ—শুকনাে পাতা জলে ভিজিয়ে সেই জল খাওয়ালে পাকথলীর স্বাভাবিক ক্রিয়া ফিরে আসে। ফ্রান্সে এর মুল, পাতা ও বীজ ক্রিমির উপদ্রব নিবারণের জন্য ব্যবহত হয়। পেপের ফল, পাতা ও বীজ থেকে Carpaine নামক একপ্রকার alkaloid পাওয়া যায়, তাহা হদযন্ত্রের অবসাসক। এভিন্ন এই পাতার ক্কাথ ঘোড়া প্রভৃতি জন্তুর বিরেচনা খাওয়ানাে হয়। পেপের পাতা স্নায়ুগত ব্যথায় বাহ্য প্রয়োগে উপকার পাওয়া যায়।


পেপের ভৈষজ্য ব্যবস্থা


কাঁচা পেপের রস (আঠা) থেকে Papsin নামক জারক রস পাওয়া যায়, যাহা অজীর্ণরােগে ফলদায়ক। এ ভিন্ন উক্ত আঠা রক্তৎকাসে,  ও  মূত্রনালীর ক্ষত ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। প্লীহা ও যকৃতবৃদ্ধীতে ৫-১০ ফোঁটা মাত্রায় ব্যবহারে  উক্ত রোগের প্রশমন হয়। ডিপথেরিয়া রোগেও এর প্রয়ােগ দেখা যায়। এ ছাড়া উক্ত পেপের আঠার বাহ্য প্রয়ােগও হয়। যেমন ‘দাদে' ও 'সােরিয়াসিসে' দিনে দু'বার

লাগালে ওটার উপশম হয়, কেন কেন প্রসাধন প্রব্যে চর্মরােগে ব্যবহত। পেপের আঠা ব্যবহার করা হয়। আহার্য হিসাবে পাকা পেপে অর্শরোগে হিতকর এবং এটি

স্তন্য বৃদ্দিকারক বলেও প্রসিদ্ধি আছে।


ব্রাজিলে পেপের বীজ তিমিরােগে, রজঃনিকারক হিসেবে ও তৃষ্ণা নিবারব”ব্যবহত হয়।


পরিচিতি


এই গাছ এত্ পরিচিত যে এর কোন না দেওয়ায় প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। তবুও মােটামুটি একটা বর্ণনা দিয়ে রাখি। মধ্যমকারে সোজা গাছ । প্রায় ২0--২৫ ফুট উচু হয়। শাখা-প্রশাখা নাই এক কথায় বলা চলে। তবে গাছ পুরাতন হল দুই-একটি শাখা বের হয়। মূল কাণ্ডের চারিধারে  ছাত্রা আকারে পাতা বের হয় ও পাকলে ঝরে যায়। এদের গঠন অনেকটা আরোন্ড পাতার ন্যায় কিন্তু

আকারে অনেকটা বড়। কিনারা ৭ ভাগে বিভক্ত। নলের মত বোঁটাটি ফাঁপা, প্রায় ৩ ফুট লম্বা। পাতার গােড়া ও সংযোগস্থলে ফুল বাহির হয়। সব পেপে গাছে

ফুল হয় না, কতকগুলাে গাছে পুং পুষ্প হয়, এদের লােকপ্রচলিত নাম “রাঁড়া"।


আর বেশী পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন নাই। এবার আর ভেষজ গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

Properties-and-medicinal-properties-of-papaya


লােকায়তিক যােগ


এটি প্রধানভাবে কাজ করে রসবহ স্রোতে।


১। রক্তঅর্শে:- ( অশের বলি থাক আর নাই থাক ) প্রত্যহ সকালে কাঁচা পেপের আঠা ৫/৭ ফোঁটা বাতাসার মধ্যে ভরে খেতে হবে। কয়েকদিন খেলেই ওর উপশম হবে। ২। ৩ দিন খাওয়ার পর রক্ত পড়া ও শূলনি কমতে থাকবে।


২। ক্রিমিতে:-সে যে কোন প্রকারেরই কৃমি হােক, পেপের আঠা ১৫ ফোঁটা,মধু ১ চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হয়, আধ ঘণ্টা পরে ঈষদুষ্ণ জল আধ কাপ খেতে হয়, তার একটু পরে ১ চামচ চুণের জল খেতে হবে। তবে এই জলটা যেন বাখারি চুণের জল হয়। (যাকে আমরা চলতি কথায় কলিচুণ বলি) এইভাবে দিন দুই খেলে ক্রিমি র উপদ্রব চ'লে যাবে।


৩। আমাশায়:-পেটে যন্ত্রণা, তার সঙ্গে শূ লু নী থাকলে কাঁচা পেপের আঠা ৩০ ফোটা চুনের জল ১ চামচ মিশিয়ে তাতে একট, দুধ দিয়ে খেতে হবে। একবার খেলেই আমাশাজনিত পেটের যন্ত্রণা কমে যাবে এবং আম ও নির্গত হতে থাকবে।


৪। যকৃৎ বৃদ্ধিতে:- এই যকৃৎ, আমরা এখন চলতি কথায় লিভার বলি। এটা প্রায় সকলেরই জানা আছে যে, এটা থাকে পেটের ডান দিকটায়। আমাদের শরীর যে রঞ্জক পিত্ত থাকে, তার আধার এই লিভার বা যকৃৎ। রক্তের লোহিত কণিকা এখান থেকেই জন্ম নেয়। এই আধারটি যখন খাদ্য, ও পানীয়র দোষে ও অনিয়মের জন্য বড় হয়, তখন ওই যকৃৎ আবার অত্যধিক বিকৃত পিত্ত দোষে ক্ষয়রোগ ও হয় । দেহের বল কমে যায়, পিও বিাকারের পরে লক্ষনাক্রান্ত পাণ্ডুরােগ হয়। এই অবস্থা হ'লে ৩০ ফোঁটা পেপের আঠা সাথে এক চামচ  চিনি মিশিয়ে এক কাপ জলে বেশ ক'রে নেড়ে নিয়ে ওটাকে সারা দিনে ৩ বার খেতে হবে। ৪। ৫ দিনের পর থেকে যকৃতের বৃদ্ধি টা কমতে থাকবে, তবে ৫। ৬ দিন খাওয়ার পর সপ্তাহে ২ দিন খাওয়াই ভালাে।


৫। মন্দাঅগ্নিতে:- যাঁরা কফ বিকার জনত অগ্নিমান্দে ভুগছেন, তাঁদের প্রত্যহ সকালে ২। ৩ ফোঁটা পেপের আঠা জল মিশিয়ে খেতে হবে। এর দ্বারা ক্ষিধেও বেড়ে যাবে এবং  হজমও হবে।


৬। পেট  ফাঁপায়:-কয়েক টুকরাে পাকা পেপের শাঁস, আর সামান্য লবণ এবং একটু গােলমরিচের গুড়াে একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হয়। এর বার পেট ফাঁপার উপশম।



এই টিপস আদিম গ্রন্থ চিরঞ্জীব বনওষুধি থেকে সংগ্রহীত(5খণ্ড) কথাও বুঝতে না পারলে অবশ্যই জেনে নিবেন।


সতর্কতা:- কিছু না জেনে কিছু করবেন না,ভালো করে পড়ে বুঝে করবেন। সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে।


পেঁপের গুনা গুন ও ভেষজ গুণাবলী (অমৃততুম্ভী) বিস্তারিত জানতে পড়ুন। পেঁপের গুনা গুন ও ভেষজ গুণাবলী (অমৃততুম্ভী) বিস্তারিত জানতে পড়ুন। Reviewed by pukaro india on এপ্রিল ০৬, ২০২১ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.